• শনিবার ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ২০শে আগস্ট, ২০২২ ইং
  • রাত ১:৫০

সৌদিতে আসার আগে যে বিষয় গুলো জানা জরুরী…

8 January, 2020 PM 11:39 ৩৭১২ বার দেখা হয়েছে
  • মোহাম্মদ আলী হৃদয় 

বাংলাদেশ থেকে যেসকল দেশে শ্রমিক রপ্তানি করা হয় বা পাঠানো হয় তাদের মধ্যে সৌদি আরব হচ্ছে অন্যতম। দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর সৌদিআরবে বাংলাদেশীদের জন্যে শ্রম বাজার খোলে দেওয়া হয় ২০১৬ সালে শুরুর দিকে।

সৌদি আরবে প্রায় ২০ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করছে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শ্রমিক নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও একমাত্র সৌদি আরব নারী এবং পুরুষ শ্রমিক নিচ্ছে।

 

মধ্য প্রাচ্যের বিশেষ কয়েকটি দেশ বাদে বিশ্বের সব দেশে বাংলাদেশী শ্রমিক নেওয়া বন্ধ আছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় সৌদি আরব আসা সহজলভ্য হওয়াতে দেশটির শ্রমবাজার, কাজের সুযোগ সুবিধা এবং বসবাসের সুযোগ সুবিধা, দেশটির নিত্য পরিবর্তীত আইন, কানুন না জেনে, ভালো- মন্দ, বিচার না করে, অনেক বাংলাদেশী পুরুষ এবং নারী শ্রমিক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব চলে এসেছে।

 

অনেকের ধারনা একবার চলে আসতে পারলে তখন একটি ব্যবস্থা হবেই। যারা এ ধারনা নিয়ে সৌদিতে এসেছে তারাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে। সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং দেশটির অর্থনীতিকে তেল নির্ভরশীলতা থেকে কমিয়ে আনার লক্ষে ভীষণ ২০৩০ ঘোষণা করেন সাথে নতুন আইন প্রকাশ করেছেন।

 

এই নতুন আইনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। এই নতুন আইন বাস্তবায়নের ফলে প্রবাসীরা এখন আর সরাসরি যে কোন বাকালা বা দোকান চালাতে পারবেনা। শর্ত সাপেক্ষে দোকান চালাতে পারলেও প্রতিটি দোকানে একজন করে সৌদি নাগরিককে ক্যাশিয়ার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদেরকে তুলনামূলক অধিক বেতন দিয়ে রাখতে হচ্ছে।

তাদেরকে যে বেতন দিয়ে দোকানে রাখা হয় এর চেয়ে কম বেতন দিয়ে একাধিক শ্রমিক রাখা যায়। নিজেদের টাকা ইনভেস্ট করে সৌদি নাগরিককে ক্যাশিয়ার হিসেবে রাখা এখানে একটা রিক্স থেকে যায়। তাই অনেক ব্যবসায়ীরা তাদের পুরানো গুছানো ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে । যারা ফ্যামিলি নিয়ে এখানে বসবাস করতেন তারাও তাদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। একসময় মোবাইলের সকল ধরনের ব্যবসা বাঙ্গালী দোকানদের দখলে ছিলো, আস্তে আস্তে সব সৌদি নাগরিকদের দখলে চলে যাচ্ছে।

 

এছাড়াও আকামার রেইট আগের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। আকামার রেট বেড়েছে ঠিকই  তবে কাজের সুযোগ সুবিধা এবং বেতন বাড়েনি তেমন। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরব আসার পর মাসের পর মাস বেকার বসে আছে হাতে কাজ নেই। খাবার খরচ নেই, মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে নাম মাত্র কোম্পানির ভিসাতে এসে বিপদে পরেছে তাদেরকে আকামা বানিয়ে দিচ্ছে না, কোন কাজ দিচ্ছে না। কিছু কোম্পানি কাজ দিলেও ঠিকমতো বেতন দিচ্ছেনা। ৪-৬ মাসের বেতন আটকা পরে আছে। এক সময় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কোম্পানি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে এবং অবৈধভাবে বসবাস শুরু করছে। অবৈধভাবে বসবাসরত শ্রমিকদের পুলিশ ধরতে পারলে একবারে দেশে পাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের জন্যে চিরদিনের জন্যে সৌদি আরবে প্রবেশ নিষেধ। আমেল আইদির পেশার ভিসার আকামা বানাতে প্রায় ১৫ হাজার রিয়াল লাগে।

তাই নতুন যারা আসতেছে তারা বেশিরভাগ লোক আমেল মঞ্জিল, সাওয়াক খাজ ফ্রি ভিসায় আসতেছে।  আমেল মঞ্জিল পেশার আকামা বানাতে লাগে মাত্র ৩ থেকে চার হাজার রিয়াল। সাওয়াক হচ্ছে সৌদির বাড়ির ড্রাইভার, আমেল হচ্ছে সৌদির বাড়ির কাজের লোক। এই ছাওয়াক এবং আমেল মঞ্জিল পেশার লোকেরা শুধু সৌদির বাড়িতে কাজ করতে পারবে, বাড়ির বাহিরে গিয়ে কোনো কোম্পানিতে কাজ করার তাদের কোনো অনুমতি নেই। আমরা যারা আমেল মঞ্জিল ছাওয়াক খাস ভিসায় এসে ফ্রি ভিসার নামে বাহিরে কাজ করতেছি তা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ পেশার লোকদের বাহিরের কর্মরত অবস্থায় ধরতে পারলে পুলিশ তাদের আকামা থাকা সত্যেও সৌদির আইন ভঙ্গ করার কারণে দেশে পাঠিয়ে দিবে। অনেক প্রবাসী ভাইদের দেশে গিয়ে অভিযোগ করতে শুনেছি আকামা থাকা সত্যেও তাদের দেশে  পাঠিয়ে দিয়েছ, মূলত এ দেশের  আইন না জানা থাকার কারণে তাদের এই অভিযোগ।

 

যারা আমেল মঞ্জিল পেশায় এসে ফ্রি ভিসার নামে এসে বাহিরে কাজ করতেছে, তারা ভবিষ্যতে যে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের আইন কানুন পরিবর্তন হতে পারে তখন আমেল মঞ্জিল পেশার লোকেরা সবার আগে বিপদে পরবে। ইতিমধ্যে সৌদি সরকার ঘোষণা করেছেন কোনো সৌদির বাড়ির আমেল যদি তাদের বাড়ির বাহিরে গিয়ে কাজ করে তাদেরকে ১০ লক্ষ রিয়াল জরিমানা এবং ২ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই সাজার ভয়ে অনেক কফিল বা সৌদি কোনো কারণ ছাড়াই হুরুপ দিয়ে দিচ্ছে। তখন প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা ছাড়া কিছু করার থাকেনা। তাই যারা নতুন করে সৌদি আরব আসতে চাচ্ছেন তাদেররকে বলবো আমেল মঞ্জিল ফ্রি ভিসাই না এসে কোনো কোম্পানিতে বা অফিসের কাজ জানা ভিসায় আসেন তাহলে কোনো বিপদে পড়বেননা।

 

বর্তমানে সৌদি আরব কর্মরত বেশিরভাগ প্রবাসীই তাদের ভবিষ্যৎ প্রবাস জীবন নিয়ে হতাশা এবং আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। দিন দিন সৌদিতে অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। কাজ অনুযায়ী চাহিদা মত বেতন পাচ্ছেন না তারা। তাই বলবো নতুন করে যারা সৌদি আরব আসতে ইচ্ছুক তারা ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসবেন।

বর্ণ টিভি